বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা, তথ্য সংশোধন করা কিংবা নতুন করে সনদ সংগ্রহ, প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সরকারি ফি রয়েছে। কাজের ধরন ও বয়সভেদে এই ফি আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে কোন সেবার জন্য কত টাকা দিতে হবে, তা জানা থাকলে অতিরিক্ত খরচ বা ভুল পেমেন্টের ঝামেলা এড়ানো যায়।
এই গাইডে জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফি, তথ্য সংশোধনের ফি এবং পুনর্মুদ্রণ ফি; প্রতিটি বিষয় সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বয়স অনুযায়ী ও সংশোধনের ধরনভেদে ফি কত, কীভাবে ফি পরিশোধ করবেন এবং আবেদন করার সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত, সেগুলোও নিচে দেওয়া হলো।
জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফি
নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে কত টাকা লাগে সেটা নির্ভর করে বয়সের উপর। জন্মের পর যত দেরি করবেন, সরকারি ফি তত বেশি হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে করলে কোনো খরচই নেই, কিন্তু এই সময়টা পেরিয়ে গেলে ধাপে ধাপে ফি বাড়ে।
| বয়স | সরকারি ফি |
|---|---|
| জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে | বিনামূল্যে (০ টাকা) |
| ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত | ২৫ টাকা |
| ৫ বছরের বেশি বয়স | ৫০ টাকা |
নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদনের ধাপগুলো, কী কী কাগজ লাগবে এবং কোথায় করবেন সব বিস্তারিত আমাদের জন্ম নিবন্ধন আবেদন গাইডে পাবেন।
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ফি
নামে বানান ভুল, জন্ম তারিখ ভুল, বাবা বা মায়ের নামে সমস্যা, এসব ক্ষেত্রে সংশোধন আবেদন করতে হয়। জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে সেটা নির্ভর করে সংশোধনটা কোন ভাষায় হচ্ছে তার উপর।
| সংশোধনের ধরন | সরকারি ফি |
|---|---|
| শুধু বাংলা তথ্য সংশোধন | ১০০ টাকা |
| বাংলা ও ইংরেজি উভয় তথ্য সংশোধন | ২০০ টাকা |
উদাহরণ দিয়ে বললে বুঝতে সহজ হবে। ধরুন, সন্তানের বাংলা নামে বানান ভুল আছে কিন্তু ইংরেজিতে ঠিক আছে। সেক্ষেত্রে শুধু বাংলা সংশোধনে ১০০ টাকা পড়বে। আর দুটোতেই যদি ভুল থাকে, বা বাংলা ঠিক করলে ইংরেজিটাও বদলাতে হয়, তাহলে ২০০ টাকা লাগবে।
জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন, জন্ম তারিখ পরিবর্তন, নামের বানান ঠিক করা, বাবা-মায়ের নাম সংশোধন, সব ক্ষেত্রেই এই একই ফি কাঠামো প্রযোজ্য। এছাড়া আগে থেকে বাংলায় নিবন্ধন থাকলে এবং ইংরেজি অংশ যোগ বা সংশোধন করতে হলে ২০০ টাকা।
একটা কথা জেনে রাখুন, সংশোধন করতে গেলে শুধু ফি দিলেই হয় না। ভুলের বিপরীতে প্রমাণ দাখিল করতে হয়। কোন কাগজ লাগবে, কতবার সংশোধন করা যাবে, কতদিন লাগে, এসব বিস্তারিত আমাদের জন্ম নিবন্ধন সংশোধন গাইডে পাবেন।
জন্ম নিবন্ধন পুনমুদ্রন ফি
সনদ হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে? পুনমুদ্রনের আবেদন করলেই হবে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি রয়েছে।
| সেবার ধরন | সরকারি ফি |
|---|---|
| জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনমুদ্রন | ৫০ টাকা |
পুনমুদ্রনের জন্য জন্ম নিবন্ধন নম্বর জানা থাকলেই যথেষ্ট। সংশ্লিষ্ট অফিসে আবেদন করলে পুরনো তথ্য অনুযায়ী নতুন কপি পাবেন। সনদের নম্বর না জানলে জন্ম তারিখ ও মায়ের নাম দিয়েও খোঁজা যায়।
তবে মনে রাখবেন, সনদ হারিয়ে গেলে শুধু পুনমুদ্রনই যথেষ্ট না, আরও কিছু বিষয় জানা দরকার। জন্ম নিবন্ধন হারিয়ে গেলে করণীয় নিয়ে আমাদের আলাদা গাইড আছে, সেটা পড়লে পুরো বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
ফি পরিশোধের পদ্ধতি
জন্ম নিবন্ধনের ফি পরিশোধের দুটো প্রধান উপায় আছে।
অনলাইন পেমেন্ট
bdris.gov.bd পোর্টালে আবেদনের সময় সরাসরি অনলাইনে ফি দেওয়া যায়। বিকাশ, নগদ, রকেট এবং ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করা হয়। জন্ম নিবন্ধন ফি অনলাইন পেমেন্ট করার পরে ট্রানজেকশন রেফারেন্স নম্বর বা কনফার্মেশন স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন। পরে অফিসে গেলে প্রমাণ হিসেবে কাজে আসবে।
সরাসরি অফিসে
যারা অনলাইনে পেমেন্টে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তারা সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন অফিসে গিয়ে নগদে ফি দিতে পারেন। পেমেন্ট করার পর রসিদ নিতে ভুলবেন না।
জরুরি কিছু টিপস
১.যত তাড়াতাড়ি করবেন, তত সাশ্রয়: শিশু জন্মের পর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন সেরে ফেলুন। এই সময়ে কোনো ফি নেই। অনেকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার ব্যস্ততায় এটা পিছিয়ে দেন, পরে ভুলে যান। মনে রাখবেন, বিনামূল্যের এই সুযোগটা আর ফিরে আসবে না।
২.আবেদনের আগে সব তথ্য মিলিয়ে নিন: নাম, জন্ম তারিখ, বাবা-মায়ের নাম লেখার আগে এনআইডি কার্ড বা হাসপাতালের ছাড়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। একটা ভুলের কারণে পরে সংশোধনে আবার আলাদা টাকা দিতে হবে।
.৩দালালের কাছে যাবেন না: সরকারি ফির বাইরে কেউ অতিরিক্ত টাকা চাইলে দেবেন না। সরাসরি অনলাইনে বা অফিসে আবেদন করা সম্পূর্ণ সম্ভব, কোনো মধ্যস্থতাকারী লাগে না।
৪.রসিদ বা পেমেন্ট কনফার্মেশন রাখুন: যেভাবেই ফি দিন না কেন, রসিদ বা ডিজিটাল কনফার্মেশন সংরক্ষণ করুন। পরে কোনো জটিলতায় এটা প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
৫.অনলাইনে করুন, সময় বাঁচান: সম্ভব হলে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে করুন। লাইনে দাঁড়ানো লাগে না, আবেদনের অবস্থাও অনলাইনে ট্র্যাক করা যায়।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করতে কি বেশি টাকা লাগে?
না, অনলাইনে হোক বা অফিসে, সরকারি ফি একই। অনলাইনে করলে বরং সময় বাঁচে, আলাদা কোনো চার্জ নেই।
জন্ম নিবন্ধন ফি কোথায় দেব?
bdris.gov.bd তে অনলাইনে বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ডে দেওয়া যায়। অথবা সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা অফিসে নগদে দেওয়া যায়।
জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করতে কত টাকা লাগে?
পুরনো ম্যানুয়াল নিবন্ধন ডিজিটাল করতে গেলে নতুন নিবন্ধনের মতোই ফি প্রযোজ্য হয়, বয়স অনুযায়ী। তবে এক্ষেত্রে কার্যালয়ে গিয়ে নিশ্চিত হওয়া ভালো কারণ প্রক্রিয়া একটু ভিন্ন হতে পারে।